Wednesday, December 5, 2012

পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলো অমুসলিম শিক্ষার্থীদেরকে আকৃষ্ট করছে


পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলো অমুসলিম শিক্ষার্থীদেরকে আকৃষ্ট করছে

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-পরিচালিত মাদ্রাসাগুলো আধুনিক পাঠক্রম চালু করার সাথে সাথে, এগুলো কেবল এই উপমহাদেশের মুসলমান স্কুলগুলো সম্পর্কে ধারণাই বদলে দিচ্ছে না ৷ বরং সেইসাথে এগুলো ইসলাম ধর্মের বাইরে অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীদেরকেও আকৃষ্ট করতে শুরু করেছে ৷

পশ্চিমবঙ্গের অরগ্রাম থেকে লিখেছেন শাইখ আজিজুর রহমান

ডিসেম্বর 06, 2012
এখন সকাল ১০:৩০ এবং কোলকাতা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত অরগ্রামের চতুষ্পল্লী হাই মাদ্রাসার ঘন্টা বাজছে, যা স্কুল দিবস শুরু হওয়ার সংকেত দিচ্ছে ৷
  • কোলকাতা থেকে ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত অরগ্রাম চতুষ্পল্লী হাই মাদ্রাসায় লাবণী ব্যানার্জি একটি কম্পিউটার ক্লাস করছেন ৷ তিনি এই মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত অনেক অমুসলিম শিক্ষার্থীর একজন ৷ [শাইখ আজিজুর রহমান/খবর] কোলকাতা থেকে ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত অরগ্রাম চতুষ্পল্লী হাই মাদ্রাসায় লাবণী ব্যানার্জি একটি কম্পিউটার ক্লাস করছেন ৷ তিনি এই মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত অনেক অমুসলিম শিক্ষার্থীর একজন ৷ [শাইখ আজিজুর রহমান/খবর]

নীল ও সাদা ইউনিফর্মে সজ্জিত হয়ে ছেলে-মেয়েরা মাদ্রাসার আঙিনায় সমবেত হয়, প্রাত্যহিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করে, যার মধ্যে রয়েছে ভালোভাবে লেখাপড়া করা, ভালো নাগরিকে পরিণত হওয়া এবং তাদের দেশের সেবা করার জন্য শপথ নেয়া ৷ ভারতের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে সকালের সমাবেশ শেষ হয় ৷
অরগ্রাম মাদ্রাসায় ক্লাস শুরু হওয়ার আগের কর্মসূচিগুলো ভারতের বেশিরভাগ সরকারি স্কুলের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয় ৷ ক্লাসের সময় কোনো শিক্ষার্থীকে পবিত্র কোরআন পড়তে হয় না বা কোনো ইসলামিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে হয় না ৷
বস্তুত, সহশিক্ষা কার্যক্রমের এই মাদ্রাসার ১,২০০ শিক্ষার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই হিন্দু, খ্রিস্টান বা প্রকৃতি-পূজারী ৷ এমনকি এর ৩০ জন শিক্ষকের মধ্যে দশজন হিন্দু ৷ মাদ্রাসাটি আধুনিক পাঠক্রম অনুসরণ করে, যা সম্ভবত ব্যাখ্যা করে যে কেন এটি অমুসলিমদের মধ্যে জনপ্রিয় ৷
মাদ্রাসাগুলোকে সাধারণত শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য স্কুল হিসেবে বিবেচনা করা হতো যেখানে শিশুরা কেবলমাত্র ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে লেখাপড়া করে এবং অবশেষে ধর্মীয় শিক্ষক বা ভবিষ্যতে ধর্মীয় আলেমে পরিণত হয় ৷
আল-কায়েদার সন্ত্রাসবাদের প্রাক্কালে, অমুসলিম বিশ্বের অনেকেই দক্ষিণ এশিয়ার হাজার হাজার মাদ্রাসাকে সন্দেহের চোখে দেখেছিল, এগুলোকে মৌলবাদী ইসলামের প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করেছিল ৷
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, অনেক স্কুলই এই বাঁধাধরা ছাঁচ থেকে বেরিয়ে আসছে ৷ পশ্চিমবঙ্গে সরকারিভাবে স্বীকৃত প্রায় ৬০০ মাদ্রাসা আধুনিক পাঠক্রম চালু করেছে, এবং এগুলোর প্রায় সবগুলোতেই অমুসলিম শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করছে ৷
বর্তমানে, রাজ্যের আধুনিককৃত মাদ্রাসাগুলোর প্রায় ২০% শিক্ষার্থী অমুসলিম, এবং তাদের অনেকেই প্রকৌশলী, ডাক্তার ও বিজ্ঞানী হতে চায় ৷
“এটা মূলত তাদের আধুনিক পাঠক্রম যা অমুসলিমদেরকে এই সব মাদ্রাসাগুলোতে আকৃষ্ট করছে,” খবর দক্ষিণ এশিয়াকে বলেছেন অরগ্রাম মাদ্রাসার হেডমাস্টার আনোয়ার হোসেইন ৷
“সাধারণ মানুষ মনে করে মাদ্রাসা হলো এমন একটি জায়গা যেখানে শিক্ষার্থীদেরকে শুধুমাত্র ধর্মীয় বিষয়গুলো শিক্ষা দেয়া হয় এবং এর সাথে আধুনিক শিক্ষার কোনো সংযোগ নেই,” বলেছেন তিনি ৷ “তাদের ধারণা বদলানোর জন্য আমরা কয়েক বছর ধরে চেষ্টা করে আসছি ৷ আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে আমরা সবগুলো সাধারণ বিষয়েই পাঠদান করছি যেগুলো সাধারণ স্কুলের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করছে”৷
অরগ্রাম এবং অনুরূপ মাদ্রাসাগুলো পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, গণিত, ভূগোল, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও অন্যান্য সাধারণ বিষয়গুলোতে পাঠদান করে থাকে ৷ শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বাধ্যতামূলক ৷ অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি আরবি ভাষা ও ইসলামী শিক্ষা বিষয়েও পাঠদান করা হয় ৷
রাজ্যের তহবিলে পরিচালিত, মূলত গ্রামীণ মাদ্রাসাগুলোতে কোনো ফি রাখা হয় না, এবং শিক্ষার্থীদেরকে বিনামূল্যে স্কুলের ইউনিফর্ম এবং দুপুরের খাবার সরবরাহ করা হয়, এবং এর মাধ্যমে এগুলোকে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তোলা হয় ৷
অনেকেই বলেন, মুসলমানরা মাদ্রাসা থেকে পাস করে ক্রমবর্ধমানভাবে নিজেদেরকে পেশাজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে - এমন একটি উদাহরণ তৈরি করছে যা অমুসলিমদেরকেও উদ্বুদ্ধ করছে ৷ আরো বেশি বেশি বাবা-মা তাদের ছেলেমেয়েদেরকে মুসলিম স্কুলগুলোতে পাঠানোর সম্ভাবনা যাচাই করে দেখছেন ৷
“কিছুদিন আগে পর্যন্ত, এই হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজ মাদ্রাসার প্রতি অনীহা ছিল যার ফলে অমুসলিম শিক্ষার্থীরা এই সব ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে দূরে থাকতো,” বলেছেন ড. হুমায়ূন কবীর, একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ যিনি একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছিলেন ৷ “কিন্তু এখন তারা জানে যে মাদ্রাসার একজন শিক্ষার্থীর জন্য ভবিষ্যতে, ডাক্তার, প্রকৌশলী বা বিজ্ঞানী হওয়াটা কঠিন কিছু নয়, এবং সেই কারণে তারা এখন তাদের ছেলেমেয়েদেরকে মাদ্রাসায় পাঠানো শুরু করেছে”৷
কিছু হিন্দু শিক্ষার্থী বলছেন যে তাদের মাদ্রাসা শিক্ষা তাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে সাহায্য করেছে এবং তাদেরকে মুসলমানদের আরো কাছে নিয়ে গেছে, যা তাদেরকে এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐতিহাসিক ব্যবধান আংশিকভাবে হলেও ঘোচাতে সাহায্য করছে ৷
“মাদ্রাসায় পড়তে আসার আগে, আমাকে বলা হয়েছিল যে ইসলাম একটি জঙ্গি ধর্ম এবং মুসলমানরা হিন্দুদের বন্ধু হতে পারে না ৷ তারা আরো বলেছিল যে মুসলমানরা অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষী,” খবরকে বলেছেন অরগ্রাম মাদ্রাসার দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী উত্তম মিস্ত্রি ৷
“কিন্তু এখন আমি দেখছি যে ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে মানুষের অনেক ভুল ধারণা রয়েছে”৷ একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবণী ব্যানার্জি তার সাথে একমত ৷
“কয়েক বছর ধরে এই মাদ্রাসায় পড়ার পর আমি জানি যে অন্য সবগুলো ধর্মকে সম্মান করার জন্য ইসলাম মুসলমানদেরকে শিক্ষা দেয়,” খবরকে বলেছেন তিনি ৷ “আমি বিশ্বাস করি, আমার সারাজীবন ধরে আমি হিন্দু থাকলেও, ইসলাম ও মুসলমানদের সাথে আমার একটা বিশেষ বন্ধন থাকবে”৷


রোহিঙ্গা মুসলিমদের অবস্থা দেখে আতংকিত ভ্যালেরি

রোহিঙ্গা মুসলিমদের অবস্থা দেখে আতংকিত ভ্যালেরি

সর্বশেষ আপডেট বুধবার, 5 ডিসেম্বর, 2012 17:52 GMT 23:52 বাংলাদেশ সময়

rohingyas
জাতিসংঘের মানবতা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা ভ্যালেরি এমোস বলেছেন, পশ্চিম বার্মার রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলমানদের অবস্থা স্বচক্ষে দেখে তিনি আতংকিত হয়েছেন।
রাখাইন প্রদেশে দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষ এখন শরণার্থী শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন। এদের মধ্যে একটা বড় অংশ রোহিঙ্গা।
ঐ অঞ্চলে সম্প্রতি যে জাতিগত সহিংসতা হয়েছে এর ফলে এইসব মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।
মায়াবন উপদ্বীপে আশ্রয়চ্যুতদের জন্য দুটি শিবির স্থাপন করা হয়েছে। একটিতে রক্ষণাবেক্ষণ খুবই ভাল, তাঁবুগুলো সুন্দর, পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা মানসম্মত - আর খাবারদাবার ও ওষুধ-সহ রসদের সরবরাহও নিয়মিত।
এই শিবিরটা শুধুমাত্র রাখাইন বৌদ্ধদের জন্য।
কিন্তু ওই রাস্তা ধরে আরও কিছুটা ড্রাইভ করে এগোলেই, রোহিঙ্গা মুসলিমদের পোড়া ঘরবাড়ি পাশে রেখে চললে আপনি পৌঁছে যাবেন রোহিঙ্গাদের শিবিরে। ত্রাণকর্মীদের মতে, এশিয়াতে তো বটেই, গোটা দুনিয়াতেই সম্ভবত সবচয়ে শোচনীয় আশ্রয়শিবির সেটা।
কাদামাটির স্তূপের ভেতরই চার হাজারেরও বেশি নারী-পুরুষ-শিশু গাদাগাদি করে রয়েছে সেই শিবিরে। পাশ দিয়েই যাচ্ছে নোংরা বর্জ্যের নালা। শিবিরের চারপাশে বর্মী রক্ষীরা পাহারা দিচ্ছে - যাতে রোহিঙ্গারা কেউ শিবির ছেড়ে পালাতে না-পারে।
এখানে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছনোও প্রায় অসম্ভব - কারণ শিবিরের চারপাশে সব জমি আর এলাকাই রাখাইন বৌদ্ধদের নিয়ন্ত্রণে, শিবিরে কোনও রসদ এলে তারাই সেটা ঢুকতে বাধা দেন।
দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদের এই একই চিত্র এখন গোটা রাখাইন প্রদেশ জুড়েই - আর সেটা দেখেই জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ের প্রধান ভ্যালেরি অ্যামস দৃশ্যতই বিষণ্ণ হয়ে পড়েন।
গত ছমাসের সহিংসতা ও বিদ্বেষের পর তিনি আবেদন জানিয়েছেন ঐক্য ও সংহতি ফেরানোর, বার্মার সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন রাখাইনে সঠিক নেতৃত্বের পরিচয় দেওয়ার।
মিস অ্যামস আরও বলেছেন, ত্রাণের কাজে অর্থ জোটানোও এখন মুশকিল হয়ে পড়ছে, কারণ কোনও এক পক্ষর হাতে ত্রাণ পৌঁছলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে যে বিরোধ তা কোনওভাবে উসকানি পাক, দাতারাও সেটা চাইছেন না।

সন্ত্রাসপ্রবণ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৩৯ নম্বরে

সন্ত্রাসপ্রবণ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৩৯ নম্বরে


Thu, Dec 6th, 2012 12:51 am BdST
 
ফয়সাল আতিক

ঢাকা, ডিসেম্বর ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিশ্বে সন্ত্রাসপ্রবণ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৯তম; আর এই তালিকায় শীর্ষ চারটি দেশের তিনটিই দক্ষিণ এশিয়ার।

১৫৮টি দেশের ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকনোমিক অ্যান্ড পিস (আইইপি) বুধবার যে ‘গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স’ প্রকাশ করেছে, তাতে এই চিত্রের দেখা মেলে।

২০১১ সালের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাগুলো সন্নিবেশিত করে ২০১২ সালের প্রতিবেদন তৈরি করেছে আইইপি, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গবেষণা চালানো যে প্রতিষ্ঠানটির ব্রত।

আইইপির ওয়েবসাইটে দেয়া এই প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, ২০১১ সালে বাংলাদেশে ছয়টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে তিনজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।

এই সব হিসাব করে আইইপি বাংলাদেশকে ৩ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট দিয়েছে, যার ভিত্তিতে দেশের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৩৯তম।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম ফর দি স্টাডি অব টেররিজম অ্যান্ড রিসপনস টু টেররিজম (স্টার্ট) এর সংগৃহিত ও সংরক্ষিত বিশ্বের সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক তথ্য উপাত্ত থেকে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে।

তালিকায় ৯ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় এক নম্বর স্থানে রয়েছে ইরাক, অর্থাৎ বিশ্বে সবচেয়ে সন্ত্রাসপ্রবণ হল মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি।

ইরাকের পরের তিনটি স্থানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ- পাকিস্তান (৯ দশমিক ০৫ পয়েন্ট), আফগানিস্তান (৮ দশমিক ৬৮) ও ভারত (৮ দশমিক ১৫)।

তালিকায় এর পরের স্থানগুলোতে রয়েছে- ইয়েমেন, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, রাশিয়া ও ফিলিপিন্স।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ১৭তম, নেপাল ২২তম ও ভুটান ৭২তম স্থানে রয়েছে। মালদ্বীপকে এই তালিকায় আনা হয়নি।

এছাড়া তালিকায় চীনের অবস্থান ২৩তম, ইসরায়েলের অবস্থান ২০তম, যুক্তরাজ্যের অবস্থান ২৮তম এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ৪১তম।

তালিকায় শূন্য পয়েন্ট নিয়ে সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছে ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর, কিউবাসহ ৪২টি দেশ। অর্থাৎ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা এই দেশগুলোতে নেই।

আইইপি সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলেছে, ২০০১ সালের পর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা উত্তরোত্তর বেড়ে ২০০৭ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছলেও এরপর থেকে কমতে শুরু করেছে। ২০১১ সালে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ২০০৭ সালের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এফএ/এমআই/০০৪৬ ঘ.

দুর্নীতিতে ২৪ ধাপ অবনতি

দুর্নীতিতে ২৪ ধাপ অবনতি




দুর্নীতি বিস্তারের ক্ষেত্রে গত এক বছরে বাংলাদেশের ২৪ ধাপ অবনতি হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক দুর্নীতির ধারণা সূচকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। টিআই পরিচালিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচকে’ গত বছর বিশ্বের ১৮৩টি দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যে সূচক করা হয়েছিল, তাতে ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী (ভালো থেকে খারাপ) বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২০ নম্বরে। আর এবার ১৭৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৪তম। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে দুর্নীতিতে অবনতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ৭টি দেশের মধ্যে ৫টির অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। অবনতি হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের। এর মধ্যে পাকিস্তানের অবনতি ৫ ধাপ আর বাংলাদেশের ২৪ ধাপ। স্কোরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়েছে। ২০১১ সালের ২৭ স্কোর কমে এবার হয়েছে ২৬। রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩ নম্বরে। এ বিবেচনায় গত বছরও বাংলাদেশ একই অবস্থানে ছিল।
বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল গতকাল সারাবিশ্বে একযোগে এ রিপোর্ট প্রকাশ করে। বাংলাদেশে রিপোর্ট প্রকাশকালে বলা হয়, বাংলাদেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা বেড়েছে। সকালে রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান নিম্নগামী; কারণ স্কোর কমেছে। এ অবস্থা উদ্বেগজনক। গত বছর ১০-ভিত্তিক স্কেলে সূচক নির্ধারণ করা হলেও এবার অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে একশ-ভিত্তিক স্কেলে। গত বছর ১০-এ বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২.৭। আর এবার ১০০-তে ২৬।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে সম্প্রতি টিআইবি সরকারের তোপের মুখে পড়ে। সংসদের ভেতরে-বাইরে সরকারি দলের নেতা ও মন্ত্রীরা টিআইবিকে তুলোধুনো করেই থামেননি, বাংলাদেশে সংস্থাটিকে নিষিদ্ধ করারও দাবি তুলেছেন। শতকরা ৯৯ ভাগ সংসদ সদস্য নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমন গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করার জন্য তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এমনই পরিস্থিতিতে গতকাল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করে। টিআইবি’র নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের প্রতি সহানুভূতিশীলরা না থাকলে এবারের রিপোর্ট আরও খারাপ আসত বলে সংশ্লিষ্ট অনেকের ধারণা। রিপোর্ট প্রকাশের সময় সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল উপস্থিত ছিলেন।
টিআই’র প্রতিবেদনে বলা হয়, শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ২০১১ সালের সঙ্গে ২০১২ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানগত পরিবর্তন না হলেও গত এক বছরে বাংলাদেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা বেড়েছে। আর এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্প, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, রেল দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগের কথা।
এবারের সূচক অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতির দেশ ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। এ তিন দেশের স্কোর ১০০-তে ৯০। গত বছর ভালোর তালিকায় শীর্ষে ছিল নিউজিল্যান্ড। ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ড ছিল দুই নম্বরে।
এবার সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির দেশ হিসেবে এসেছে আফগানিস্তান, কোরিয়া ও সোমালিয়ার নাম। দেশগুলোর স্কোর ১০০-তে ৮। গত বছর সর্বশেষ অবস্থানে ছিল শুধু সোমালিয়া ও উত্তর কোরিয়া।
এর আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৯৯৬-২০০১ আমলের শেষ বছরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০০৫ সাল থেকে (২০০৬ সালে প্রকাশিত রিপোর্টে) বাংলাদেশ দুর্নীতিতে শীর্ষ অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। চারদলীয় জোট সরকারের সময় দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান এক নম্বর থেকে তৃতীয়তে উন্নীত হয় এবং বিএনপি জোটের শেষ বছর ২০০৬ সালে (রিপোর্ট প্রকাশ ২০০৭ সালে) অবস্থার আরও উন্নতি হয়ে ৭ নম্বরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। পরের বছরগুলোতে যথাক্রমে ১০, ১৩, ১২ এবং ১৩তম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।
বিভিন্ন দেশের দুর্নীতির পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি বছর এ ধারণাসূচক প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির দাবি, এ সূচকে দুর্নীতি বিস্তারের একটি ধারণা পাওয়া যায়।
দক্ষিণ এশিয়ার চিত্র : দক্ষিণ এশিয়া তথা সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ভুটান। তাদের স্কোর ১০০-তে ৬৩। ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী তাদের অবস্থান ৩৩। দেশটি এক বছরে পাঁচ ধাপ উন্নতি করেছে। গত বছর তাদের অবস্থান ছিল ৩৮ নম্বরে। দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ শ্রীলঙ্কা। দেশটি ৪০ স্কোর করে ৭৯ নম্বরে অবস্থান করছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটি ৩৬ স্কোর করে ৯৪ নম্বরে উঠেছে। গত বছর তাদের স্কোর ছিল ২৭ এবং অবস্থান ছিল ১২০ নম্বরে। বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা অপর দুটি দেশ হচ্ছে পাকিস্তান ও নেপাল। এ দুটি দেশ ২৭ করে স্কোর করেছে এবং যুগ্মভাবে তাদের অবস্থান ১৩৯ নম্বরে। পাকিস্তানের স্কোর ৫ পয়েন্ট এবং নেপালের ২ পয়েন্ট বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় স্কোর কমেছে একমাত্র বাংলাদেশের। স্কোর ১ কমে ২৬-এ নেমেছে এবং অবস্থান ১২০ থেকে একলাফে ২৪ ধাপ নেমে ১৪৪-এ পতিত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের মধ্যে মালদ্বীপ এ বছর সিপিআই সূচকে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি।
অবস্থা উদ্বেগজনক : ড. ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান নিম্নগামী। এর কারণ স্কোর কমেছে। এ অবস্থা উদ্বেগজনক। ধারণা সূচকে এবার বাংলাদেশের স্কোর ২৬, যা গত বছরের তুলনায় এক পয়েন্ট কম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছরে বাংলাদেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা বেড়েছে। আর এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্প, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, রেল দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগের বিষয়।
টিআইবির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটা প্রতিষ্ঠানটির ১৮তম বার্ষিক দুর্নীতির ধারণা সূচক। এবারের সূচকে বিশ্বের ১৭৬টি দেশের পাবলিক সেক্টরের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সমান স্কোর করেছে ক্যামেরুন, ইউক্রেন, কঙ্গো রিপাবলিক, সিরিয়া ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক।
রিপোর্টে বলা হয়, দুর্নীতি একটি মারাত্মক বৈশ্বিক সমস্যা। কোনো দেশই ১০০ স্কোর পায়নি। কম দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে পরিচিত অনেক দেশই ৮০ স্কোরের কম পেয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে জার্মানি, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, স্পেন ও ইতালি। ১৭৬টি দেশের মধ্যে ১২৪টি দেশ ৫০-এর কম স্কোর পেয়েছে। বৈশ্বিক গড় (সহনীয় দুর্নীতি) ৪৩ স্কোরের কম পাওয়া দেশের সংখ্যা ৬৭টি।

Monday, December 3, 2012

বাংলাদেশের বানিজ্যের জন্য বেলারুশ এক উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র

 বাংলাদেশের বানিজ্যের জন্য বেলারুশ এক উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র

উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

 সৈয়দ তাশহিন চৌধুরী

ডিসেম্বর 04, 2012
 
বাংলাদেশ সরকার বেলারুশের সাথে উভয়ের জন্য লাভজনক একটি বন্ধুত্বের প্রত্যাশা করছে যা বেলারুশের প্রতিবেশি কাজাখস্থান এবং রাশিয়াতে ক্রমবর্ধমান প্রবেশাধিকারসহ বেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণেরবানিজ্য সুবিধা আনতে পারে।
  • বেলারুশ সরকার ঢাকায় অনুষ্ঠিত নভেম্বরের বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে শুল্কমুক্ত পণ্যসুবিধাযুক্ত বাজারের ব্যাপারে কথা দিয়েছে, এটি এমন একটি উদ্যোগ যা এদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে অন্যান্য পোশাক রপ্তানিকারকদের সাথে ২০১০ এর মিনস্ক-এর পণ্য বাজারের বেলারুশেরর এই নারীর মত ক্রেতাদের  মধ্যে ব্যবসার ক্ষেত্রে ভাল একটি সুযোগ করে দিবে ।   [ভিক্টর দ্রচেভ/এ এফ পি] বেলারুশ সরকার ঢাকায় অনুষ্ঠিত নভেম্বরের বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে শুল্কমুক্ত পণ্যসুবিধাযুক্ত বাজারের ব্যাপারে কথা দিয়েছে, এটি এমন একটি উদ্যোগ যা এদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে অন্যান্য পোশাক রপ্তানিকারকদের সাথে ২০১০ এর মিনস্ক-এর পণ্য বাজারের বেলারুশেরর এই নারীর মত ক্রেতাদের মধ্যে ব্যবসার ক্ষেত্রে ভাল একটি সুযোগ করে দিবে । [ভিক্টর দ্রচেভ/এ এফ পি]

১২ই নভেম্বরের বেলারুশের প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিয়াস্নিকোভিচ এবং তার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষের সাথে বৈঠকে-তার অপরপক্ষ শেখ হাসিনাকে সম্ভাব্য সহযোগিতার লক্ষ্যে তার ঢাকার অফিসে উভয়পক্ষ বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তারা বিজ্ঞান, ম্যানুফ্যাকচারিং, সামরিক প্রকৌশল এবং শিক্ষার বিষয়গুলিতে সহযগিতার ব্যাপারে অঙ্গীকার করেন।
এর আগের দিন, মিনস্ক ঢাকাকে কথা দেয় যে বাংলাদেশ শীঘ্রই বেলারুশে শুল্কমুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার পাবে-যার মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানির উপর থেকে ২০-২৫% শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে এবং উভয় অর্থনীতির ক্ষেত্রে সংকীর্ণ এবং কষ্টদায়ক বানিজ্য ঘাটতিকে সম্ভাব্য সহায়তা দিবে।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফ বি সি সি আই)-এর তথ্য মতে, বেলারুশ ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৮৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে , অন্যদিকে, একইসময়ে বাংলাদেশের তা মাত্র ২ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার।
শুল্ক প্রত্যাহার বেলারুশের শুল্ক অংশীদার কাজাখস্থান এবং রাশিয়া পর্যন্তও বিস্তৃত হতে পারে, যদি তারা তা অনুমোদন দেয়।
বানিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ খবর সাউথ এশিয়াকে বলেন, “রাশিয়া, বেলারুশ এবং কাজাখস্থান একটি অভিন্ন শুল্ক ইউনিয়নের সদস্য এবং বাংলাদেশি পণ্য এই বাজারগুলিতে প্রবেশ করতে পারে যখন বেলারুশ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদান করবে”। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে মস্কো এবং আসতানা এ উদ্যোগের ব্যাপারে সম্মত হবে।
“বেলারুশের প্রধানমন্ত্রী এটি ইতিমধ্যে বাংলাদেশের কাছে ঘোষনা দিয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে এটি এখন শুধু সময়ের ব্যাপার”, তিনি যোগ করে বলেন।
একটি বিশাল বাজার
কাজাখস্থান এবং বিশেষকরে রাশিয়াতে শুল্ক প্রত্যাহার বাংলাদেশের রপ্তানির ক্ষেত্রে এক বিশাল সুযোগ হতে পারে, বিশেষ করে তৈরি পোশাকখাতে, যা ২০১১-২০১২ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০%, মার্কিন ডলারে মোট ২৪ দশমিক ২৮ বিলিয়ন।
ঢাকার নিকটবর্তী ফতুল্লার এম-বি নীট ফ্যাশন-এর মালিক মোহাম্মদ আলী বর্ণনা করেন যে কিভাবে তৈরি পোশাক খাত লাভবান হতে পারে। আলী, যিনি ৭০০ জনেরও অধিক শ্রমিককে কাজ দিয়েছেন, তিনি সেপ্টেম্বরের ২৪ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত চারদিনব্যাপী চলা রাশিয়ার বানিজ্যমেলায় অংশগ্রহণ করেন।
“আমরা ১০মিলিয়ন ডলারের তাৎক্ষনিক কাজের নির্দেশ পেয়েছি ঐ চারদিনে”, আলী খবরকে বলেন। “আমাদের মধ্যে একজন সারা বছরের জন্য ৭ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি লাভ করেছেন”। তিনি হিসাব করেছেন যে, বেলারুশ, রাশিয়া এবং কাজাখস্থানের সামগ্রিক বস্ত্র বাজার বছরে ১০ বিলিয়ন ডলারের।
নতুন বানিজ্য অংশীদার
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারারস এ্যান্ড এক্সপোরটারস এসোসিয়েশন (বি জি এম ই এ)-এর সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বাংলাদেশের রপ্তানি ক্ষেত্রে এক ব্যাপক উৎসাহব্যঞ্জক ঘটনা মনে করে বেলারুশের সাথে গাঢ় হওয়া সম্পর্ককে স্বাগত জানান।
তিনি বলেন, “বানিজ্যের পরিমাণ এখন বাড়বে, এ চুক্তির পর”।
“বেলারুশ কৃষি এবং খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে উন্নত”, মহিউদ্দিন বলেন। “তারা কৃষিক্ষেত্রে বেশকিছু শ্রেষ্ঠ যন্ত্রপাতি এবং ট্রাক তৈরি করে থাকে যা বাংলাদেশ আমদানি করতে পারে তার কৃষিক্ষেত্রের জন্যও”।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক নতুন বিনিয়োগের পথ তৈরি করতে যাচ্ছে। “চুক্তির পর”, রহমান খবরকে বলেন। “বেলারুশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে এবং এখানে উৎপাদিত পণ্য প্রতিবেশী ভারত এবং অন্যান্য গন্তব্যে রপ্তানি করবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, বেলারুশের মত পরিবর্তিত অর্থনীতিকে প্রধান বাজার হিসাবে দৃষ্টি দেয়া বাংলাদেশের জন্যও জরুরি। যেমনভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ই-ইউ বৈশ্বিক মন্দার ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
“বাংলাদেশের পশ্চিম এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির সাথে ঐতিহ্যগতভাবে যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু, আমাদের জন্য এখন উঠতি অর্থনৈতিক শক্তিগুলির সাথে সম্পর্ক তৈরি করা ভাল অদূর ভবিষ্যতের লাভের কথা চিন্তা করে”, তিনি বলেন।

বাংলাদেশের জন্য ভিসা পদ্ধতি সহজ করবে ভারত

 বাংলাদেশের জন্য ভিসা পদ্ধতি সহজ করবে ভারত

ডিসেম্বর 04, 2012
ঢাকা, বাংলাদেশ – সোমবার (৩রা ডিসেম্বর) আঞ্চলিক সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রথা সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় সরকার।
    India to adopt liberal visa policy with Bangladesh
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ সরন সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশ ও এর জনগণের অর্থনৈতিক উন্নতি ত্বরান্বিত করতে ঢাকার সাথে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ভারতের পদক্ষেপ হিসেবে, আমরা ভিসা প্রথার জন্য একটি উদার নীতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঢাকায় বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির এক প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
কয়েক মাস ধরে দেশ দু’টি ভিসার ওপর কড়াকড়ি ব্যবস্থা শিথিল করার বিষয়ে কথা বলছিল। দা হিন্দুর খবর অনুযায়ী, তারা অক্টোবরে একটি উপায় বের করতে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছিল। তবে, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের অপেক্ষায় না থেকে, ভারত এককভাবেই বাংলাদেশের বয়স্ক নাগরিক, ছাত্র, ব্যবসায়ী, রোগী এবং পর্যটকদের জন্য ভিসা পদ্ধতি সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমানে, ভারত বছরে প্রায় ৫০০,০০০ বাংলাদেশী নাগরিককে ভিসা প্রদান করে।


Sunday, December 2, 2012

আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরের গোপন সংকেত বা মানে জানুন।

আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরের গোপন সংকেত বা মানে জানুন।

বাংলাদেশী হিসাবে আমাদের অনেকেরই জাতীয় পরিচয় পত্র আছে। অনেকে এটাকে ভোটার আইডি কার্ড হিসাবে বলেন যেটা সম্পূর্ন ভূল। এটার ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র।

আপনারা দেখলেন এটার নীচে লাল কালি দিয়ে লেখা ১৩ সংখ্যার একটা নম্বর আছে যাকে আমরা আইডি নম্বর হিসাবে জানি। কিন্তু এই ১৩ সংখ্যার মানে কি?

১. প্রথম ২ সংখ্যা – জেলা কোড। ৬৪ জেলার আলাদা আলাদা কোড আছে। ঢাকার জন্য এই কোড ২৬।
২. পরবর্তী ১ সংখ্যা – এটা আর এম ও (RMO) কোড।
* সিটি কর্পোরেশনের জন্য -৯
* ক্যান্টমমেন্ট -৫
* পৌরসভা -২
* পল্লী এলাকা -১
* পৌরসভার বাইরে শহর এলাকা -৩
* অন্যান্য - ৪

৩. পরবর্তী ২ সংখ্যা -এটা উপজেলা বা থানা কোড
৪. পরবর্তী ২ সংখ্যা - এটা ইউনিয়ন (পল্লীর জন্য) বা ওয়ার্ড কোড (পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের জন্য)
৫. শেষ ৬ সংখ্যা - আইডি কার্ড করার সময় আপনি যে ফর্ম পূরণ করেছিলেন এটা সেই ফর্ম নম্বর।