Wednesday, December 26, 2012

জাতিসংঘের সামনে মহিলাদের বিক্ষোভ : ২১ পর্দানশিন নারীর মুক্তি দাবিতে মহাসচিবের কাছে স্মারকলিপি

জাতিসংঘের সামনে মহিলাদের বিক্ষোভ : ২১ পর্দানশিন নারীর মুক্তি দাবিতে মহাসচিবের কাছে স্মারকলিপি

নিউজমিডিয়াবিডি.কম, নিউইয়র্ক

‘বাংলাদেশে আওয়ামী-বাকশালী সরকারের অধীনে ধর্মনিষ্ঠ পর্দানশিন নারীরাও যে নিরাপদ নয়—তা ন্যক্কারজনকভাবে প্রকট হয়েছে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নারী ও সন্তানসম্ভবা তরুণীসহ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ২১ নেতাকর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে তাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানোর মধ্য দিয়ে। জালেম সরকারের পুলিশ শুধু তাদের পর্দার খেলাপই করেনি, রিমান্ডে নিয়ে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে। আমরা অবিলম্বে গ্রেফতার করা ইসলামপ্রিয় মহিলা ও উচ্চতর শিক্ষায় নিয়োজিত ছাত্রীদের মুক্তি দাবি করছি।’
১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কার্যালয়ে হানা দিয়ে ছাত্রীদের গ্রেফতার ও রিমান্ডে তাদের ওপর নির্যাতন করার প্রতিবাদে ২৪ ডিসেম্বর সকালে ম্যানহাটনে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে বাংলাদেশী আমেরিকান ওমেন্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনের নেতারা উপরোক্ত দাবি জানান।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে মহিলারা নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বেলা ১১টার মধ্যে কয়েকশ’ মহিলা সেখানে সমবেত হন। বিক্ষোভে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশী আমেরিকান তরুণীদের অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ছাত্রী সংস্থার নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি এবং নারী নির্যাতন বন্ধের দাবিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়। স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন বাংলাদেশী আমেরিকান ওমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী শাহানা মাসুমের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতারা। পরে তারা নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে গিয়ে ছাত্রীদের মুক্তি ও তাদের ওপর পরিচালিত নিপীড়নের প্রতিকার দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর লেখা অপর একটি স্মারকলিপি কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্মারকলিপি হস্তান্তরের আগে ইশরাত রুহির পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাশেদা আলী, শাহানা মাসুম, মাহের নেগার, সাদিয়া রেজা, সুমাইয়া তাবাসসুম, সাদিয়া রোমানা, ফারজানা আহমেদ, সালমা আফরোজ, তাসনিয়া হেনা, তাহুরা মালিহা গুল, নাসরিন সুলতানা কলি, ফিরোজা আখতার, মারিয়াম তানজিলা, শারমিন হক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা, চারজন পূর্ণমন্ত্রী এবং প্রায় ৫০ জন সংসদ সদস্য নারী হওয়া সত্ত্বেও সেদেশে এভাবে মা-বোনদের নির্যাতন করা সহ্য করা যায় না। সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পর্দানশিন নারীদের গ্রেফতার করে শুধু তাদেরকেই অপমান করেনি, ইসলামেরও অবমাননা করেছে। তারা অবিলম্বে গ্রেফতার করা ইসলামপ্রিয় ছাত্রীদের মুক্তি দাবি করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে বিনা কারণে এতসংখ্যক ইসলামপ্রিয় নারীকে গ্রেফতার করে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়নি। ইতিহাস এই নিপীড়কদের কখনও ক্ষমা করবে না। তারা এই ন্যক্কারজনক গ্রেফতার-নিপীড়নের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং গ্রেফতার করাদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে আরও বলেন, গ্রেফতার করা প্রত্যেকেই উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত। বক্তারা বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা জালেম সরকারের বিদায় নিশ্চিত করার জন্য আন্দোলন বেগবান করেন। তা না হলে বাংলাদেশে কেউ নিরাপদে থাকবে না এবং নারীরাই হবে সরকারি বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের নির্মম শিকার। আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে আমরা নিপীড়কদের অভয়ারণ্যে পরিণত করতে দিতে পারি না।

No comments:

Post a Comment