Friday, November 30, 2012

ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম এমপি : বাংলাদেশের বর্তমান দুঃখ-দুর্দশার জন্য দায়ী দুদক ও বিচারালয়

ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম এমপি : বাংলাদেশের বর্তমান দুঃখ-দুর্দশার জন্য দায়ী দুদক ও বিচারালয়




লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এলডিপি প্রধান ও অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম এমপি বলেছেন, দেশ ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতিবিদদের মধ্যে মূল্যবোধ লোপ ও অবক্ষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। অবৈধ সম্পদ উপার্জনে একটি বিশেষ ক্ষেত্র হিসেবে রাজনীতি হয়ে পড়েছে একটি লোভনীয় পেশা। দেশের জনগণ ভালো থাকুক, দেশের উন্নতি হোক—এ বিষয়গুলো এখনকার রাজনীতিতে নেই বললেই চলে।
গতকাল ড. অলি তার মহাখালীর ডিওএইচএসের বাসভবনে আমার দেশকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাত্কারে বর্তমান সরকার, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক, বিচার বিভাগসহ অন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সঠিকভাবে কাজ না করায় ব্যাপক সমালোচনা করেন। একইসঙ্গে তিনি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল আন্দোলনের যৌক্তিকতা এবং সংসদে না যাওয়ার কারণগুলোও বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন।
আজ এলডিপির তৃতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে এই কাউন্সিলে প্রধান অতিথি থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। ড. অলি আহমদ কাউন্সিলর উদ্বোধন করবেন। এলডিপির তৃতীয় কাউন্সিলর উপলক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে ড. অলির মতামত জানতে চাওয়া হয়।
বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশে বর্তমানে চলা দুঃখ-দুর্দশার জন্য দায়ী করেছেন দুদক ও বিচার বিভাগকে। তিনি বলেন, সর্বক্ষেত্রে এখন দলীয়করণ, আত্মীয়করণ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রাধান্য পাচ্ছে। বর্তমান সরকারের সময় দুর্নীতি ব্যাপক হারে বেড়েছে। সোনালী ব্যাংক-হলমার্ক ক্যালেঙ্কারি, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি এবং ডেসটিনি, যুবক ও ইউনিপেটু’র মতো কিছু গজিয়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর টাকা আত্মসাত্ সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। প্রকৃত দোষীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। দুদকও এসবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছে না। তিনি মনে করেন, যতদিন পর্যন্ত দুদক, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ স্বাধীন ও সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে নিজ দায়িত্ব পালন করবে না, ততদিন পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আশা দুরাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ড. অলি তার দলের তৃতীয় কাউন্সিলকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন একাধিক কারণে। তিনি বলেন, এবারের কাউন্সিলে মূলত কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পাবে। এতে আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হবে। নেতাকর্মীদের সরকারবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেয়া হবে। সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের সেবা করার কথা বলা হবে। কারও দালালি বা তৈলমর্দন করে এলডিপিতে ভালো স্থানে অধিষ্ঠিত হওয়া যাবে না—এমন একটি মেসেজও দেয়া হবে। সামাজিক অবক্ষয় রোধ করতে জনগণকে সচেতন করা। ভোটের সময় সত্ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ভোট দেয়ার জন্য জনগণকে সচেতন করা। এছাড়াও গঠনতন্ত্রে ছোটখাটো সংশোধনী আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর দেশের এক সঙ্কটময় মুহূর্তে এই দলটির প্রতিষ্ঠা হয়। এই দলের লক্ষ্য হচ্ছে দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে শান্তি সুখের বাংলাদেশ গঠন।
প্রশ্ন : আপনাদের সংগঠন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি—এলডিপি’র আজ তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনীতির এক অমানিশায় এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। এখন রাজনীতির অন্য এক সঙ্কটে এই সংগঠনের কাউন্সিল হচ্ছে। এই দুই অবস্থার তুলনা করে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি তুলনা করুন।
উত্তর : দেশ ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতিবিদদের মধ্যে মূল্যবোধ লোপ এবং অবক্ষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। রাজনীতিবিদদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের এবং জনগণের উন্নয়নে কাজ করা। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, বর্তমানে অবৈধ ধনসম্পদ উপার্জনে বিশেষ ক্ষেত্র হিসেবে রাজনীতি হয়ে পড়েছে লোভনীয় একটি পেশা। দেশের জনগণ ভালো থাকুক, দেশের উন্নতি হোক—এ বিষয়গুলো এখনকার রাজনীতিতে নেই বললেই চলে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত। ফলে তাদের দ্বারা সৃষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানের মন-মানসিকতাও তাদের নেই। এসব করতে সময়ও পাচ্ছে না বর্তমান সরকার। আমাদের সবাইকে মন-মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ফলপ্রসূ ও কার্যকর পরিবর্তন আনতে হবে।
ক্ষমতায় আসা বা ক্ষমতা ধরে রাখা কোনোক্রমেই রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। বর্তমানে দুঃখ-দুর্দশার জন্য দায়ী অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক এবং বর্তমান বিচারব্যবস্থা। কারণ, সব ক্ষেত্রে এখন দলীয়করণ, আত্মীয়করণ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রাধান্য পাচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত একজন রাজনীতিবিদের বা কর্মকর্তার সততা, ন্যায়পরায়ণতা, যোগ্যতা ও দক্ষতার মানদণ্ডে নিয়োগপ্রাপ্ত হবে না, ততদিন পর্যন্ত দেশের কোনো উন্নয়ন আশা করা যায় না। জনগণের মঙ্গলও সুদূর পরাহত। এর জন্য দেশের জনগণও কম দায়ী নয়। কারণ, নির্বাচন এলেই যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তির মূল্যায়ন না করে দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেয়। অনেক সময় কিছু টাকার বিনিময়ে নিজের ঈমান বিক্রি করে। আমাদের সবাইকে স্ব স্ব জায়গায় আল্লাহ এবং আল্লাহর রসুলের নির্দেশিত পথে কাজ করতে হবে। তাহলে সমস্যার সমাধান করা অসম্ভব কিছু নয়।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের জনগণই হলো অন্যতম প্রধান সম্পদ। তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, মানবতা, দেশপ্রেম ও নিজ নিজ ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য। এ ব্যাপারে রাষ্ট্র উদাসীন। ফলে দিন দিন শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অনেক সময় বিপথগামী হচ্ছে। এখন টাকাই যেন সবকিছু। ধর্মের কোনো মূল্য আমাদের অনেকের কাছে অনুপস্থিত।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময় দুর্নীতি ব্যাপক হারে বেড়েছে। সোনালী ব্যাংক-হলমার্ক কেলেঙ্কারি, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি এবং ডেসটিনি, যুবক ও ইউনিপেটু’র মতো কিছু গজিয়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাত্ সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। প্রকৃত দোষীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। কারণ, তারা সরকারের সঙ্গে জড়িত। পত্রিকায় পাওয়া তথ্য থেকে বিগত ৪ বছরে এক লাখ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলারের ওপরে বিদেশে পাচার হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক রাজনীতিবিদ বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ করেছে এবং ঘর-বাড়ি খরিদ করেছে। তাদের তালিকা প্রকাশ করতে সরকারের কাছে একাধিকবার অনুরোধ করেছি, দাবি জানিয়েছি। কিন্তু সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। এর মূল কারণ হলো তাদের দলের এমপি ও রাজনীতিবিদরাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
তিনি মনে করেন, দুদকও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছে না। দুদকের অনেকে রাজনৈতিক পরিচয়ে সেখানকার বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত রয়েছে। সুতরাং তাদের কাছে ন্যায়বিচার আশা করাটা অবাস্তব। যতদিন পর্যন্ত দুদক, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ স্বাধীন ও সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সার্বিকভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে না, ততদিন পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে শুধু কাগজে-কলেমেই গণতন্ত্র আছে। পক্ষান্তরে কাজ করছে স্বৈরতন্ত্র, প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি। মিথ্যা কথা বলা আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থা থেকে জরুরিভিত্তিতে উত্তরণ একান্তই প্রয়োজন। দেশ কোনো ব্যক্তির নামে ইজারা দেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে যুবসমাজকে ভালো-মন্দ বিচার করে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং সঠিক ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। কাপুরুষের মতো ঘরে বসে থাকলে, শুধু নিজের কথা ভাবলে দেশ আরও ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে।
প্রশ্ন : নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধী জোট আন্দোলন করছে। এই আন্দোলনের অর্থ কি এই নয় যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ হিসেবে আপনারা ব্যর্থ। এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা কতটুকু।
উত্তর : আমরা একে অপরকে বিশ্বাস করি না। কেউ কারও ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। কারণ, রাজনীতিবিদের অতীত ও বর্তমান ইতিহাস কোনোটাই ভালো নয়। মূলত ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের পক্ষ থেকে এ দাবি এসেছিল। বেগম জিয়া দেশের সংঘাত এড়ানোর জন্য এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাঘার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তনের জন্য রাজি হয়েছিলেন। দেশবাসী সবাই জানে আমরা সত্য বলি, কখনও মিথ্যা বলি না। মিথ্যাবাদীদের ওপর কখনও আস্থা রাখা যায় না। যতদিন পর্যন্ত সঠিক ব্যক্তির সঠিক জায়গায় পদায়ন হবে না, ততদিন পর্যন্ত এ সমস্যা থেকে বের হতে পারব না। আমাদের দেশকে সঠিক পথে নিয়ে আসার জন্য মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের সবাইকে প্রতিদান দিতে হবে। এখানে আবেগ পরিহার করতে হবে। তাহলেই কেবল সত্, যোগ্য, দক্ষ, দেশপ্রেমিক উপযুক্ত ব্যক্তিরা দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করার সুযোগ পাবে। শুধু শিক্ষিত হলে হবে না। সেইসঙ্গে তার যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকতে হবে। অনেকের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে।
প্রশ্ন : সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশন শেষ হলো। কিন্তু বিরোধী দল বরাবরের মতো এবারের এই অধিবেশনেও যায়নি। বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এটাকে কীভাবে দেখছেন?
উত্তর : সংসদে যাচ্ছি না একথা ঠিক নয়। প্রথম দিকে নিয়মিত সংসদে উপস্থিত ছিলাম। পরে দেখলাম এটা হলো একটা একদলীয় সরকারের সংসদ। এই সংসদে ভিন্নমত পোষণ করার কোনো অবকাশ নেই। উদাহরণস্বরূপ দেশে বর্তমান রাজনীতিবিদদের মধ্যে আমি একজন অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। আমাদের পরিবার বিগত প্রায় ৭০ বছর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি নিজেও একজন ছাত্র হিসেবে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি। একজন তরুণ ক্যাপ্টেন হিসেবে একাত্তর সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিয়ে সর্বপ্রথম বিদ্রোহ করি। জীবনে কোনো অন্যায় কাজে লিপ্ত হইনি। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হইনি। আমার মতে যা সত্য এবং বাস্তব তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমি মনে করি তোষামোদকারীরাই হলো একজন নেতার সবচেয়ে বড় শত্রু। সমালোচক নয়, একজন ভালো সমালোচক প্রকৃত বন্ধু। প্রায় ৫৮ বছর আমার কর্মজীবন। দেশকে এবং দেশের মানুষকে অনেককিছু দেয়ার আছে। অনেক এমপি সংসদের বিভিন্ন কমিটির সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত আছেন। বিরোধী দল থেকে আমাকেও পরিকল্পনা সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। আমি নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে আমাকে প্রদত্ত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য আমাকে ওই সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ থেকে সড়ে দাঁড়াতে হয়েছে। তাহলে বুঝতে হবে বর্তমান সরকার কতদূর প্রতিশোধপরায়ণ। রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু গালাগালি ছাড়া, অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করা ছাড়া দেশের সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান হবে—এ বিষয়গুলোর ওপর সংসদে আলোচনা করার সুযোগ নেই। শুধু তৈলমর্দন করা ছাড়া মানুষের মঙ্গলের জন্য কিছুই বলা যায় না। সুতরাং এ ধরনের রাবারস্ট্যাম্প মার্কা সংসদে গিয়ে নিজকে বেইজ্জতি করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
প্রশ্ন : দেশের আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা মূল্যায়ন করুন।
উত্তর : বিগত চার বছরে দেশের আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার জন্য সরকারই দায়ী। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য অস্ত্র হাতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছে। পত্রপত্রিকায় তাদের নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সাহস এই সরকারের নেই। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি ও সরকারের সাবেক কর্মকর্তা। হঠাত্ করে গত কদিন ধরে তিনি জামায়াত-শিবিরকে দমন করার জন্য ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছেন। মূলত আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তারই হাতে। সুতরাং আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে তার চিন্তাভাবনা হবে স্বচ্ছ ও দলীয় দৃষ্টিকোণের ঊর্ধ্বে, যা এখনও পরিলক্ষিত হয়নি। বর্তমান সরকারের সময়ও প্রায় শেষ। আমার ধারণা মতে, দিন দিন দেশের অবস্থা আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করবে। এর জন্য দায়ী সরকারের অহঙ্কারি এবং একগুঁয়েমি মনোভাব। ভালো কাজের জন্য আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান একটি উত্তম পন্থা।

No comments:

Post a Comment