Monday, November 26, 2012

এলডিসির প্রবাসী-আয়ের ৪৪ শতাংশ বাংলাদেশের


এলডিসির প্রবাসী-আয়ের ৪৪ শতাংশ বাংলাদেশের
সংবাদ সম্মেলনে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসনিম সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসনিম সিদ্দিকী
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মোট প্রবাসী-আয়ের মধ্যে ৪৪ শতাংশই বাংলাদেশের অনাবাসীরা পাঠান। ২০১১ সালে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রবাসী-আয় ছিল দুই হাজার ৭০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশে এসেছে এক হাজার ২০০ কোটি ডলার।
গতকাল সোমবার প্রকাশিত ‘আঙ্কটাডস এলডিসি প্রতিবেদন ২০১২’-এ এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। আঙ্কটাডের পক্ষে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এ উপলক্ষে সিপিডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে বক্তব্য দেন সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) চেয়ারম্যান তাসনিম সিদ্দিকী।
এই প্রতিবেদনের আলোকে দক্ষ মানবসম্পদ বিদেশে পাঠানো, অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে প্রবাসী-আয়ের যথাযথ ব্যবহার ও স্থায়ী প্রবাসীদের (ডায়াসপরা) অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধির পরামর্শ দেন বক্তারা।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও বিদেশি সহায়তার নেতিবাচক প্রবাহের মধ্যেও বাংলাদেশের প্রবাসী-আয় সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দেবপ্রিয় বলেন, কম দক্ষ মানুষের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তাই মাথাপিছু আয় বাড়ছে না। এ জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ভাষাজ্ঞানে দক্ষ করে পাঠাতে হবে। আবার স্থায়ী প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে অর্থ পাঠানোসহ বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ‘ডায়াসপরা’ শব্দটি সংযোজনের পরামর্শ দেন তিনি। এই মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে উন্নয়নমুখিতা ও অর্থনৈতিকমুখিতা নেই। মারা গেলে প্রবাসী শ্রমিকদের লাশ ফেরত আনাই যেন মূল কাজ।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির চেয়ে প্রবাসী-আয়ের প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি স্থিতিশীল। প্রবাসী-আয়প্রবাহ বাড়ায় বাংলাদেশে বৈদেশিক অর্থায়নের নির্ভরশীলতা কমছে। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি সহায়তা আসছে, আর সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদন: তাসনিম সিদ্দিকীর উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবাসী-আয় শুধু অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হয়—এই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভারতে আসা প্রবাসী-আয় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় হচ্ছে, যা মানবসম্পদ উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো, কীভাবে এই বিশাল প্রবাসী-আয় উৎপাদনশীল খাতে আরও ব্যবহার করা যায়?
তাসনিম সিদ্দিকী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসার তথ্য না থাকায় এই মুহূর্তে কত লোক দেশের বাইরে আছেন—তার সঠিক হিসাব সরকারের কাছে নেই। তিনি শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসার তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দেন।

No comments:

Post a Comment